আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সালমান এফ রহমান, তার ছেলে আহমেদ সায়ান এফ রহমানসহ বেক্সিমকো গ্রুপ থেকে আসা সব পরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন সাবেক কর্মকর্তারা। রোববার ঢাকার আইএফআইসি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে প্রায় দুইশ সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এ বিক্ষোভ শুরু করেন।
তাদের দাবি, ‘অবৈধভাবে’ যাদের নিয়োগ হয়েছে, ব্যাংক থেকে তাদের অপসারণ করতে হবে। সেই সঙ্গে ২০১৩ সালের পর থেকে যাদের পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে চাকরিতে ফিরিয়ে আনতে হবে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, ‘মানসিক চাপ সৃষ্টি করে’ যেসব কর্মকর্তা কর্মচারীকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে, চাকরিচ্যুতির তারিখ থেকে তাদের পুনর্বহাল করতে হবে। আর তাদের মধ্যে যাদের চাকরির বয়স ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে, তাদের পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্টসহ সম্পূর্ণ পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি পাননি, তাদের উচ্চতর গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়া; পারফরমেন্স বোনাস বাতিল করে প্রত্যেক কর্মকর্তা কর্মচারীকে তাদের মূল বেতনের গুণিতক হিসাবে বার্ষিক লভ্যাংশ বোনাস দেওয়া; ‘ইচ্ছাকৃত’ ঋণ খেলাপিদের ঋণ পূণঃতফসিল না করা এবং ঋণের সুদ মওকুফ না করা; খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ের ব্যবস্থা করা; ব্যাংকে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে যে ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ চালু রয়েছে, তা দূর করে কর্মচারীবান্ধব করে ব্যাংককে গড়ে তোলার দাবি জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।
২০০৯ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান আইএফআইসি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেন। ২০১০ সালে তিনি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন। তখন তার হাতে ছিল ব্যাংকের ৩০ শতাংশ শেয়ার।
সালমান এফ রহমানের ছেলে সায়ান এফ রহমান নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিনিধি হিসেবে আইএফআইসি ব্যাংকের পর্ষদে রয়েছেন। এ বছর মে মাসে তিনি ব্যাংকের ৩ কোটি ৮৫ লাখ ৩৫ হাজার শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।