সিনিয়র রিপোর্টার: আশির দশকের শেষদিকে পথচলা শুরু করে গচিহাটা অ্যাকুয়াকালচার ফার্ম লিমিটেড। তখনও আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ ও গরু পালন বা কৃষিভিত্তিক শিল্প ততটা জনপ্রিয় ছিল না।
শুরুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও ভালো ছিল না। যে কারণে উৎপাদন বন্ধ, ব্যাংক ঋণ ও লোকসানে ডুবছিল।
১৯৮৮ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদীতে গচিহাটা অ্যাকুয়াকালচারের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানিটির মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হয়েছিল। এরপর পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়ে ১৯৯৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় কোম্পানিটি।
সেই গছিহাটা অ্যাকুয়াকালচার ফার্মস লোকসান কাটিয়ে এখন বড় মুনাফায় ফিরেছে। ২০২১ সালে কোম্পানিটি ১৪০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কিছুই দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ২০২০ সালে ১৭ কোটি টাকা লোকসান হলেও ২০২১ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে মুনাফা দেখানো হয়েছে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা।
এক বছরে (২০২১) কোম্পানি শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬৭২ টাকা ৬৭ পয়সা। সব মিলে আয় ১৩৯ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার ৪৩৭ টাকা। যেখানে ২০২০ সালে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৮৪ টাকা ৭৭ পয়সা বা সর্বমোট ১৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬৮ হাজার ৫২৭ টাকা লোকসান হয়।
২০০২ সালে শাস্তি হিসেবে পাওয়া ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে যায় গছিহাটা অ্যাকুয়াকালচার ফার্মস। ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ওটিসি মার্কেট বিলুপ্ত হলে এসএমই প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তর করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এরপরে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ পুনরায় ব্যবসা শুরুর আগ্রহ প্রকাশ করে ১০ আগস্ট বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে বৈঠক করে।
১০৯ একর জমির মালিকানা থাকা সত্ত্বেও মূলধন ঘাটতির কারণে গত দুই দশক ধরে খারাপ অবস্থায় ছিল।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গছিহাটা অ্যাকুয়াকালচারের ৫৬ দশমিক ০২ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ২৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ শেয়ার। বাকি ১৮ দশমিক ১২ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
২০২১ সালে শেয়ারপ্রতি ৬৭২ টাকা ৬৭ পয়সা আয় করলেও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ দেয়নি গছিহাটা অ্যাকুয়াকালচার। এমনকি সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরও ইপিএসের বিষয়ে কোন তথ্য জানানো হয়নি।
২০২১ সালে আয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে গছিহাটা অ্যাকুয়াকালচার ফার্মসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কিছু জানাননি। তবে নিয়মিত কোম্পানির পর্ষদ সভা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পর্ষদ সভা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের এখনি জানানোর কিছুই নেই।
কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি টাকা।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।