শাহীনুর ইসলাম: নতুন কারখানায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট। বর্তমানে কনফিডেন্স সিমেন্টের দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা প্রায় চার হাজার মেট্রিক টন। ঢাকায় নতুন আরো একটি কারখানা চলতি বছরে আলোর মুখ দেখলে দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা হবে ছয় হাজার টন।
সব মিলে কোম্পানির দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে ১০ হাজার টনে। বিশেষ সম্ভাবনার এমন খবরে সব শেয়ার লুফে নিচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী।

উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে প্রতি বছরের ইমারত নির্মাণে রড, সিমেন্ট ও ইটের চাহিদা প্রতি বছরেই চাহিদা বাড়ছে। সেই চাহিদার যোগান দিতে অধিক উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নতুন কারখানাও তৈরি করছে কোম্পানিগুলোর কর্তৃৃপক্ষ।
যদিও চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফা এক তৃতীয়াংশে নেমেছে। গত বছরে অর্থাৎ ২০২০ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৭ টাকা ৮০ পয়সা এবং তিন প্রান্তিক বা ৯ মাসে ছিল ১৪ টাকা ১৬ পয়সা।
তার আগের বছর ২০১৯ সালের একই সময়ে তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ছিল দুই টাকা পাঁচ পয়সা।

চলতি বছরের হিসাবে চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে মাত্র ২ টাকা ৬২ পয়সা; যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৭ টাকা ৮০ পয়সা। তুলনামূলক গত বছরের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ মুনাফা হয়েছে।
চলতি হিসাববছরের প্রথম তিন প্রান্তিক মিলিয়ে তথা ৯ মাসে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৮ টাকা ৪৬ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে ১৪ টাকা ১৬ পয়সা আয় ছিল।
কনফিডেন্স সিমেন্ট কোম্পানিটির তুলনামূলকভাবে মুনাফা প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশি-বিদেশি সিমেন্ট কোম্পানি আছে সাতটি। ভালো মৌল ভিত্তির এই কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেওয়ার ব্যাপারে বরাবরই উদার। ১৯৯৫ সালে তালিকাভুক্তির পরে থেকে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয়ার পরিমাণ কমায়নি।
ডিএসইর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে সাড়ে ৩৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার পর পরের বছর ২০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয় বিনিয়োগকারীদের। ২০১৮ সালেও একই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখে কনফিডেন্স সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ। তবে ২০১৯ সালে কিছুটা কমে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছে।

তবে কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন, ২০২০ অর্থবছরের জন্য ২০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। গত ১০ জানুয়ারি ঘোষিত লভ্যাংশের মধ্যে ১৫ শতাংশ ক্যাশ ও ৫ শতাংশ বোনাস। ২০২১ সালেও ৩০ শতাংশ (২৫ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ বোনাস) লভ্যাংশ প্রদান করেছে।
তিন প্রান্তিকে (জুলাই ২০২০-মার্চ ২০২১) শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১৪ টাকা ১৬ পয়সা।
তবুও শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ধারণের পরিমাণ ছিল ১৫.৬১ শতাংশ, ৩১ জুলাই তা বেড়ে হয়েছে ৩৫.৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ৫৪.৩৬ শতাংশ থেকে কমে ৩৫.৫৪ শতাংশ।
ভালো মৌল ভিত্তির কোম্পানি হওয়ার দিনে-দিনে সাধারণ বিনিয়োগকারীর শেয়ার দখলে নিচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। যে কারণে লেনদেনের শীর্ষে থেকে শেয়ারপ্রতি দরও বাড়ছে।

বুধবার ডিএসইতে টপ গেইনারের তিন নম্বর স্থানে থাকা কনফিডেন্স সিমেন্ট কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৭ টাকা।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।