বাজারভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় হার চালুর কথা এক-দেড় বছর ধরেই বলে আসছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই পরামর্শ মঙ্গলবার আরও একবার দিয়েছে সংস্থাটি। আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে বিনিময় হার নমনীয় করে বাজারভিত্তিকের দিকে যাওয়া উচিত।
মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল রিজিয়নাল ইকোনমিক আউটলুক প্রকাশ উপলক্ষে সিঙ্গাপুর থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, একবার নমনীয় বিনিময় হার বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের হিসাবে বড় ধরনের স্থিতিশীলতা আসবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক এখনও মুদ্রা বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক না করায় সংস্থাটির পক্ষ থেকে আবারও এই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্থতায় ব্যাংকারদের সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) বিনিময় হার নির্ধারণ করে।
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে বাংলাদেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল ৪৭০ কোটি ডলার। কিন্তু একই সময়ে আর্থিক হিসাবে ঘাটতি হচ্ছে ৮৩০ কোটি ডলার। এ ঘাটতি এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় চার গুণ। আর্থিক হিসাবের মধ্যে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এবং স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ অন্তর্ভুক্ত।
কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, একই কারণে বাংলাদেশের স্থানীয় মুদ্রা টাকাও চাপের মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মুদ্রা বিনিময় হার নমনীয় করার পদক্ষেপ নিলে বাংলাদেশ আর্থিক হিসাব ভালো হওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সমস্যা মোকাবিলা করার চেষ্টায় আছে বাংলাদেশ। দেশটি সক্রিয়ভাবে এ বিষয়ে আইএমএফের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে এবং আইএমএফ সেই সহায়তাও করছে। আর তাই সামষ্টিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে এখন কিছুটা ভালো করছে বাংলাদেশ।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।