বাজেট–পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে রোববার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এদিন লেনদেন হওয়া ৮৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানেরই দাম কমেছে। তাতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৬৬ পয়েন্ট বা সোয়া ১ শতাংশ। এর ফলে ডিএসইএক্স সূচকটি প্রায় ৩৮ মাস আগের অবস্থানে ফিরে গেছে।
গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে আগামী ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। ঘোষিত বাজেটে শেয়ারবাজারের মূলধনি আয়ের ওপর নতুন করে করারোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বাজেটে প্রস্তাব করেছেন, শেয়ারবাজারে ব্যক্তিশ্রেণির কোনো বিনিয়োগকারী ৫০ লাখ টাকার বেশি মূলধনি মুনাফা করলে তার ওপর করারোপ করা হবে।
যদিও বাজেট ঘোষণার আগে থেকে শেয়ারবাজার–সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ থেকে মূলধনি মুনাফার ওপর করারোপ না করার দাবি জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও মূলধনি মুনাফায় করারোপ করা হয়। এরপর আজ বাজেট–পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে বাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। আজ শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় সূচকের সামান্য উত্থান দিয়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যে সেই উত্থান দরপতনে রূপ নেয়। এরপর বেলা যত বেড়েছে, পতনের তীব্রতাও ততই বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত ডিএসইএক্স সূচকটি ৬৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ১৭১ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বাজেটের পর প্রথম কার্যদিবসে বড় দরপতনের ফলে ডিএসইএক্স সূচকটি আবারও ২০২১ শুরুর অবস্থানে ফিরে গেছে। এর আগে সর্বশেষ এ সূচকটি ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল ৫ হাজার ১৬৫ পয়েন্টের সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শেয়ারবাজারে দীর্ঘ সময় ধরেই মন্দাভাব চলছে। এ অবস্থায় বাজেটে শেয়ারবাজারে গতি ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করেছিলেন বিনিয়োগকারীরা। পাশাপাশি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ারও দাবি ছিল বিভিন্ন পক্ষের। কিন্তু বাজেটে শেয়ারবাজারের জন্য প্রণোদনার বদলে নতুন করে মূলধনি মুনাফা আরোপের সিদ্ধান্ত হয়। যার প্রভাবে গতকাল হতাশ বিনিয়োগকারীরা সকাল থেকে শেয়ার বিক্রি শুরু করেন। যার প্রভাবে বাজারে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমে যায়। অনেক শেয়ার ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭০ শতাংশেরই দাম কমেছে। দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশের। আর সিএসইর সার্বিক সূচকটি ১০৬ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ১৪ হাজার ৮৪০ পয়েন্টে।
দুই বাজারে সূচক কমলেও লেনদেনের ক্ষেত্রে ছিল ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা। ঢাকার বাজারে লেনদেন কমলেও বেড়েছে চট্টগ্রামের বাজারে। ডিএসইতে আজ লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৫৮ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১৮৫ কোটি টাকা কম। চট্টগ্রামের বাজারে এদিন লেনদেন হয় ১০৮ কোটি টাকার, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৯৪ কোটি টাকা বেশি।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।