বিদায়ী সপ্তাহে (২৯ ডিসেম্বর-০২ জানুয়ারি) দেশের শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে সূচকের সামান্য উত্থান এবং কিছু কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধি পেলেও, বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ৩১ ডিসেম্বর ‘ব্যাংক হলিডে’ উপলক্ষে দেশের উভয় শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ ছিল। এ কারণে, চার কর্মদিবসে এই সপ্তাহের লেনদেন সম্পন্ন হয়। মোট ৪১৩টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ১৬৪টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে, ১৮২টি কমেছে এবং ৫০টি অপরিবর্তিত ছিল।
সূচকের অগ্রগতি ও লেনদেনের তথ্য: ডিএসইতে সপ্তাহজুড়ে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩,৬০০ কোটি টাকার কিছুটা কম, আগের সপ্তাহের তুলনায়। দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭২০ কোটি টাকা।
শীর্ষ কোম্পানির লেনদেন: ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড: সপ্তাহজুড়ে গড়ে ২১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা ছিল মোট লেনদেনের ৬.০৫%।
রবি আজিয়াটা লিমিটেড: গড়ে ১০.৭৯ কোটি টাকার লেনদেন। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন: গড়ে ১০.৭৮ কোটি টাকার লেনদেন। এছাড়াও, সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ফাইন ফুডস এবং অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারগুলোতে বেশ ভালো লেনদেন হয়েছে।
শেয়ার দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকা: সপ্তাহজুড়ে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের শেয়ার, যা ৪৩.৭৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, খুলনা প্রিন্টিং (২৯.১১%), ইয়াকিন পলিমার (১৯.০৫%), লিগ্যাসি ফুটওয়্যার (১৫.৮৫%) এবং রূপালী ব্যাংক (১৪.৫৫%) শীর্ষে রয়েছে।
শেয়ার দর কমানোর শীর্ষ তালিকা: সবচেয়ে বেশি দর কমেছে প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড (১১.১৪%) এবং অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে খান ব্রাদার্স (৯.৭৮%), ওরিয়ন ইনফিউশন (৮.৮৫%), জুট স্পিনার্স (৮.৭৫%) প্রমুখ।
বাজারের মনোভাব: বাজারে সাধারণভাবে কিছুটা অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে কিছু বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রির দিকে ঝুঁকেছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান লাভের দিকে। বিশেষত, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আরও সচেতন এবং বিশ্লেষণমূলক মনোভাব গ্রহণ করেছেন।
আগামী সপ্তাহের পূর্বাভাস: মুদ্রাস্ফীতি এবং মূল্যস্ফীতির প্রভাব, ভবিষ্যতে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা থাকলেও, প্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ব্যাংকিং খাতের শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ: ডিএসইএক্স সূচক ৬,২০০ পয়েন্টে সাপোর্ট এবং ৬,৩৫০ পয়েন্টে রেজিস্ট্যান্সে রয়েছে। সূচক যদি ৬,৩৫০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়, তবে বাজারে উন্নতির সম্ভাবনা থাকতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ: সঠিক বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ কৌশল গ্রহণ করার মাধ্যমে বাজারে সঠিক সময়ে বিনিয়োগ করা উচিত। এছাড়া, আইপিও এবং স্টক সিলেকশন এর ক্ষেত্রে পেশাদার উপদেষ্টার পরামর্শ নেয়ার গুরুত্ব রয়েছে।
বিশেষ নোট: এই প্রতিবেদন শুধুমাত্র তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে। বিনিয়োগের আগে পেশাদার আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে পরামর্শ করুন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।