সুন্দরবনে পর্যটনশিল্পের আরও সম্ভাবনা বাড়াতে পানগুছি নদী ঘিরে ৯১২ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। দক্ষিণাঞ্চলের জেলা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ফেরিঘাটে ৯১২ কোটি টাকার বিনিয়োগে ১৪৪০ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি ব্রিজ তৈরি করা হবে।
ইতোমধ্যে সমীক্ষাও শেষ করা হয়েছে। আরও কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী তিন মাসের মধ্যে ‘ট্রেন্ডার’ আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর।
২০১৭ সালের ২৮ মার্চ মোরেলগঞ্জের পানগুছি নদীতে ট্রলার ডুবে ১৯ জন নিহত হলে স্থানীয়ভাবে সেতু নির্মাণের দাবি ওঠে। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেক সভায় ‘সাইনবোর্ড-মোরেলগঞ্জ-রায়েন্দা-শরণখোলা-বগী সড়কের ১৭তম কিলোমিটারে পানগুছি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের’ অনুমোদন দেন।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর জানিয়েছে, পারাপারের সুবিধায় ব্রিজের মোট দৈর্ঘ্য ১৪৪০ মিটার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৭.৩৩ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, ৪৭৩ মিটার এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ, ২.৫০ কিমি সড়ক নির্মাণ এবং ১৫০০ মিটার নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯১২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। নির্ধারিত ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৫১২ কোটি এবং ৩৯৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা অর্থায়ন করবে কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের (কেএফএইডি)।
পানগুছি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সরকারি দপ্তরে কিছু প্রক্রিয়ার অনুমোদন বাকি রয়েছে, যা শিগগিরই শেষ করে ট্রেন্ডার আহ্বান করা হবে। তবে আগামী তিন মাসের মধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তা।
‘মোরেলগঞ্জের ফেরিঘাটে বসছে ব্রিজ’ বলেন পানগুছি ব্রিজ কনস্ট্রাকশন প্রজেক্টের ডিরেক্টর মো. শফিকুল ইসলাম। ঢাকার তেজগাঁওয়ের সড়ক ভবন অফিসে তিনি বলেন, ‘ফেরিঘাটে আগে থেকে সড়ক থাকায় নতুন করে সংযোগ সড়ক তৈরি করতে হবে না। তবে সড়কের কিছু সংস্কার করা হবে। বর্তমান সড়ক ১৮ ফুট, তা বৃদ্ধি করে ২৪ ফুট করা হবে। নদীর ওপর ব্রিজের সম্মুখভাগে বসানো হবে এক্সেলেটর ও টোলপ্লাজা। সড়কের দুই পাশে কানেক্টিং সড়ক নির্মাণ করা হবে।’
ব্রিজের টোল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ব্রিজের টোল কি পরিমাণ হবে, তা পরে নির্ধারণ করা হবে। ইতোমধ্যে সমীক্ষা শেষ হয়েছে। ব্রিজ নির্মাণে সময় লাগবে সাড়ে তিন বছর’ বলেন শফিকুল ইসলাম।
সড়কপথে দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকা বিশেষভাবে উপকৃত হবে। বাগেরহাটের সঙ্গে খুলনা, মংলা পোর্ট ও সুন্দরবন ভ্রমণ আগ্রহীদের জন্য বিশেষ কাজে আসবে বলেন তিনি। যারা সড়ক পথে সুন্দরবন যেতে চান তাদের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অন্তত একঘণ্টা সময় কমবে। সুন্দরবনগামী পর্যটকরা বেশি সুবিধা ভোগ করবেন। কারণ নির্মিত ব্রিজের সড়ক শরণখোলার রায়েন্দা ঘাটে গিয়ে মিশবে।
নদী পারাপারে এখন ফেরিতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। তা ছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা। তবে ব্রিজের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে। তখন ঢাকা থেকে সুন্দরবন ভ্রমণকারীদের সময় অনেক কমবে এবং সুবিধাও বাড়বে বলেন জানান প্রজেক্টের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।