টেকসই রাজস্ব আদায়ে রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেই আলোকে এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি নতুন বিভাগের খসড়া অধ্যাদেশ করা হলে তা বাতিল দাবিতে অবস্থান নিয়েছে বিসিএস (ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশন। এদিকে, ইন্সপেক্টর ও সুপারিনটেনডেন্ট (কাস্টম) পদ ফিরে পেতে আন্দোলন করছেন বাংলাদেশ কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাকাএভ) নেতারা।
বিসিএস (ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা, গতিশীলতা ও কার্যকারিতা হুমকির মুখে পড়বে এবং এনবিআরে কর্মরত বিসিএস (কর) ও বিসিএস (কাস্টমস ও এক্সাইজ) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পেশাগত ভবিষ্যত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এনবিআর একটি স্বতন্ত্র ও আইনসম্মত রাজস্ব প্রতিষ্ঠান। তাই এনবিআর বিলুপ্তির মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে আসায় কথা বলেছেন কর কর্মকর্তারা।
অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা মনে করেন, এনবিআর বিলুপ্তি করে পরবর্তী রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আইনি অসুবিধা ও পরিচালনাগত জটিলতার সৃষ্টি হবে। তাই সমাধান না থাকায় রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার খসড়া অধ্যাদেশটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
নীতিগত আন্দোলন সম্পর্কে এসোসিয়েশন থেকে বলা হয়েছে, খসড়া অধ্যাদেশ বাতিল করতে আমরা চাপ প্রয়োগ করছি। ইতোমধ্যে শনিবার সভার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছি। এনবিআর বিলুপ্ত করা হলে সমস্যাগুলো সামনে আসবে। তাই বাতিল দাবিতে অবস্থান নিয়ে অনড় আছি।
তারা বলেন, এনবিআর বিলুপ্ত হলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আইনি ও কাঠামোগত শূন্যতা সৃষ্টি হবে। বর্তমানে প্রচলিত অসংখ্য কর আইন, এসআরও ও নির্দেশনার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
এনবিআরের গত শনিবার এ সংক্রান্ত এবটি বিশেষ সাধারণ সভা করা হয়েছে। সভায় ১৭ এপ্রিল উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়া অধ্যাদেশে ব্যাপক অসংগতি রয়েছে। ফলে বিসিএস (কর) ও বিসিএস (কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ) ক্যাডারের সদস্যসহ এনবিআরের অধীন কর্মরত হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকারের পরিপন্থি। খসড়া অধ্যাদেশ কর্মজীবন বিকাশের পরিপন্থি হওয়ায় এবং এনবিআর বিলুপ্তি পরবর্তী রাজস্ব ব্যবস্থাপনার আইনি অসুবিধা ও পরিচালনাগত জটিলতার সমাধান না থাকায় অধ্যাদেশটি অবিলম্বে বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তাদের দাবি, খসড়া অধ্যাদেশে একাধিক কাঠামোগত অসংগতি ও আইনি বিভ্রান্তি রয়েছে। রাজস্ব নীতি বিভাগকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের সুযোগ দেওয়া, জনবল নিয়োগসংক্রান্ত সুপারিশ কমিটির অস্পষ্টতা ইত্যাদি বিষয়গুলো আইনের দৃষ্টিতে সাংঘর্ষিক বলে বিবেচনা করছে এসোসিয়েশন।
এদিকে, ইন্সপেক্টর ও সুপারিনটেনডেন্ট কাস্টমসের আদি পদ ফিরে পেতে আন্দোলনে নামছেন বাংলাদেশ কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাকাএভ) নেতারা। পদ ফেরানোর দাবিতে গত রোববার দুপুরে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের কাছে চিঠি দিয়েছেন বাকাএভ নেতারা।
তাদের দাবি, মাঠ পর্যায়ে পাঁচ হাজারের অধিক ইন্সপেক্টর ও সুপারিনটেনডেন্ট কর্মরত রয়েছে। রাষ্ট্রের আয়ের কিছু অংশ ছাড়া প্রায় পুরোটার যোগানদাতা ‘এনবিআর’। যা কাস্টমস ও ভ্যাটের মাঠ পর্যায়ের ৫ হাজারের অধিক ইন্সপেক্টর ও সুপারিনটেনডেন্টদের মাধ্যমে অর্জিত হয়।
১৫ বছর আগে বাজেটে তাদের মতামত উপেক্ষা করে ইন্সপেক্টর পদকে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) এবং সুপারিনটেনডেন্ট পদকে রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) নামকরণ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা তাদের পুরনো পদ আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছর বাজেট থেকে ফিরে পেতে চান তারা।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।