সকল মেনু

তালিকাভুক্তির নীতিতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে সিএসই

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব শেষে (আইপিও) সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ার লেনদেন করতে কোম্পানিগুলোকে আগে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নতুন আইপিও বিধিমালা, ২০২৫ এর খসড়ায় সে বাধ্যবাধকতা নেই। খড়সায় বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলো একটি বা দুটি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারবে।

খসড়ায় থাকা এই নিয়ম চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে সিএসই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে শংকা প্রকাশ করেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুর রহমান মজুদমদার। নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তিতে বাধ্যবাধকতা না থাকায় সিএসইর জন্য সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

যার কারণ হলো- সিএসইর পরিচালন আয়ের প্রায় ৭১ শতাংশই এসেছে তালিকাভুক্তি কোম্পানির ফি থেকে।

তবে কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে দীর্ঘদিন ধরে স্টক এক্সচেঞ্জগুলো নিজেদের ক্ষমতায়নের কথা বলে আসছিল, তার প্রতিফলন নতুন আইপিও বিধিমালায় রয়েছে বলে জানায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বর্তমানে দেশে দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ রয়েছে। একটি দেশের সবচেয়ে পুরনো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপরটি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। ১৯৯৪ সালে সিএসইর যাত্রা শুরুর পর উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিগুলোর প্রতি তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা ছিল।

আইপিও বিধিমালা, ২০২৫ এর খসড়া প্রস্তাবে সেই বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে কোম্পানিগুলোকে যে কোন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) খসড়ার বিধিমালার চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে আগামীতে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে অথবা যে কোন একটি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারবে কোম্পানিগুলো।

তথ্যানুযায়ী, ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে সিএসইর প্রধান বোর্ডে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের সংখ্যা ৬২৩টি এবং এসএমইতে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের সংখ্যা ১৯টি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালন আয়ের প্রায় ৭১ শতাংশ এসেছে তালিকাভুক্তির ফি থেকে। এ খাত থেকে মোট আয়ের পরিমাণ ২২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। পরিচালন আয়ের বাকী তিনটি খাত হচ্ছে- ট্রানজেকশন ইনকাম/ক্যাপাসটি চার্জ, ট্রেক নবায়ন আয়, সেবা আয় ও কমিশন।

এ সব খাত থেকে আয় হয়েছে ৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

উল্লেখিত হিসাব বছরে সিএসইর নিট আয়ের পরিমাণ ২৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি আয়ের পরিমাণ ছিল ৫০ পয়সা। অর্থাৎ সিএসইর আয়ের বড় অংশই নির্ভর করছে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বার্ষিক ফি থেকে।

জানতে চাইলে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুদমদার বলেন, পদ্ধতিগত সংস্কার কিংবা নীতি সহায়তা ছাড়া ঐচ্ছিক তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সিএসইর জন্য সংকট তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে কোম্পানিগুলোর পছন্দ অনুযায়ী বা স্বাধীনভাবে তালিকাভূক্তির বিষয়ে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তিতে স্বাধীনতা থাকা উচিত, কাউকে বাধ্য করা ঠিক নয়।

তালিকাভুক্তির বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জগুলো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ক্ষমতায়নের জন্য দাবি জানিয়ে আসছিল। নতুন আইপিও বিধিমালায় কোম্পানিগুলোর তহবিল সংগ্রহে স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশের বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ফলে ইস্যুয়ার (কোম্পানি) যে কোন স্টক এক্সচেঞ্জ বা উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির আবেদন করতে পারবে।

তিনি বলেন, যদি ডিএসই কোন কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে না চায় সেক্ষেত্রে সিএসই তালিকাভুক্ত করার সুযোগ পাবে।

তালিকাভুক্তিতে কোম্পানিগুলোর স্বাধীনতা সম্পর্কে আইসিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। তাদেরকে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তিতে বাধ্য করা উচিত হবে না।

তিনি আরও বলেন, ডিএসই এবং সিএসইর প্রায় একই ট্রেকহোল্ডার। ঢাকা এবং চট্টগ্রামে তাদের শাখা রয়েছে। ফলে যে কেউ ঢাকা বা চট্টগ্রামে ট্রেড করতে পারেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top