স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শতভাগ বেতন-ভাতা দিতে হবে। একই সঙ্গে আরও চারটি বিষয়ে দাবি তুলে শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলন করেন সংগঠনের নেতারা।
২২ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার পদক্ষেপ না নিলে ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর সারাদেশে একযোগে কর্মবিরতি এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে বলেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. আলতাফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ আল মোমিন, দপ্তর সম্পাদক গিয়াস উদ্দীন, রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন বাবুসহ সংগঠনের অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা।
তারা বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসম্পাদন করে থাকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। গ্রামীণ উন্নয়নে মাস্টার রোল তৈরী, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় বিভিন্ন ভাতাভোগীদের তালিকা তৈরি, গ্রাম আদালত পরিচালনা, উন্নয়ন সহায়তা তহবিল প্রকল্পের বাছাই চুড়ান্ত ও বাস্তবায়ন এবং রাজস্ব আদায়সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করেন।
গ্রামীণ উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা থাকলেও অবমূল্যায়িত হচ্ছেন বলেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল মোমিন বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান। দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করেন। আমরা তাদের বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে থাকি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে অবমূল্যায়িত হচ্ছি। তাই ৫ দফা দাবি নিয়ে এসেছি। সরকার বাস্তবায়নের পদেক্ষেপ না নিলে পরবর্তীতে বৃহত্তর কর্মসূচির দিকে অগ্রসর হবো।
দাবিগুলো হলো- ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ এবং সময়োপযোগী নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিতে হবে। মন্ত্রণালয় থেকে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শতভাগ বেতন-ভাতা দিতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবসরকালীন শতভাগ আনুতোষিক বা পারিবারিক পেনশন দিতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর গঠন করতে হবে।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে বলেন সমিতির সভাপতি আলতাফ হোসেন । তিনি বলেন, ‘৪ ডিসেম্বর দেশের ৬৪ জেলার প্রশাসক, ৮ ডিসেম্বর সব বিভাগীয় কমিশনার এবং ১৭ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দেয়া হবে। ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার পদক্ষেপ না নিলে সারাদেশে কর্মবিরতি এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
তারপরও দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি জাতীয় শহীদ মিনার চত্বরে মহাসমাবেশ আহবান করা হয়ছে। সেই সমাবেশ থেকে লাগাতার বৃহত্তর কর্মসূচি প্রদান করা কথাও বলেন আলতাফ হোসেন।
তারা বলেন, ১৯৯০ সালের নিয়োগ যোগ্যতা অনুযায়ী স্নাতক পাস গ্রেড নির্ধারণ করা হয় ১৪, একই সময়ে অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা (উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা, নার্স, সিনিয়র স্টাফ নার্স, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, তহসিলদার) যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল এইচএসসি ও সমমান তাদের ১৬ গ্রেড ছিল। ২০২৫ সালে এসে তাদের প্রায় সকল পদেই দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। আর আমরা রয়ে গেছি সেই ১৩তম গ্রেডেই। অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বেতন কয়েক দফায় আপডেট করা হয়েছে, আমরা এখনও গ্রেড ১৩ এবং আগের বেতনে রয়ে গেছি।
বেতন-ভাতা সম্পর্কে বলেন, বর্তমানে বেতনের ৭৫ শতাংশ সরকারি তহবিল থেকে ২৫ শতাংশ ইউপি অংশ (যা উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কর ১ শতাংশ ও হাট-বাজার, জল মহাল ইজারালব্ধ আয়ের অর্থ হতে প্রদান করে) একত্র করে জেলা প্রশাসক শতভাগ বেতন-ভাতা প্রদান করে থাকেন। কিন্তু উৎসব ও আনুতোষিক ভাতা ৫০ শতাংশ সরকারী তহবিল হতে এবং ৫০ শতাংশ ইউপি অংশ হতে দেয়া হয়। যার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরগণ বেতন-ভাতাদি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।