কোম্পানি করদাতাদের বর্তমানে ব্যবসা পরিচালনার জন্য করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) এবং ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) দুটিই নিতে হয়। তবে আয়কর ও ভ্যাটে আলাদা নিবন্ধন ব্যবস্থা থাকায় প্রকৃত করদাতার সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।
এর ফলে দুই খাতে রিটার্ন জমার সংখ্যায় বড় ধরনের ব্যবধানও সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্যা দূর করে রাজস্ব বাড়াতে টিআইএন ও বিএআইএনের পরিবর্তে একক ইউনিক নম্বর চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এজন্য কাস্টমস এবং আইটি বিভাগের সমন্বয়ে ১৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আবু ইউসুফ জানান, অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র কমিটির সুপারিশেও একটি ইউনিক নম্বর চালুর কথা উল্লেখ রয়েছে, যাতে ব্যবসার লেনদেন সহজে শনাক্ত করা যায়। তবে এনবিআরের পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন না হলে এমন উদ্যোগ বাস্তবে কার্যকর হবে না বলে তিনি মনে করেন। তাঁর বক্তব্য, ম্যানুয়াল ব্যবস্থায় রাজস্ব আদায় করে ফাঁকি রোধ করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) বসানোর জন্য এনবিআর প্রায় ৫–৬ লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করলেও স্থাপন করতে পেরেছে মাত্র ১১ হাজারটিতে। রাজস্ব আদায় ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে করতে পারলে শুধু ভ্যাট আদায়ই তিনগুণ বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, ওয়াসা ও ডেসকোর মতো সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় জোরদার করা গেলে আয়কর আদায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এনবিআরের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে প্রতি মাসে গড়ে পৌনে ৫ লাখ প্রতিষ্ঠান রিটার্ন দেয়। তিন লাখের বেশি অনলাইনে রিটার্ন জমা পড়ে। ভ্যাট আইন অনুযায়ী, প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে কেনাবেচার যাবতীয় তথ্য দিয়ে ভ্যাট রিটার্ন দিতে হয়। অন্যদিকে প্রতিবছর ৩৯ হাজার ৬০০ কোম্পানি করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দেয়। যদিও আরজেএসসিতে (যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তর) নিবন্ধিত কোম্পানির সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।