সকল মেনু

সাত ব্যক্তি ও ২ প্রতিষ্ঠান পাচার করেছে ১০১ কোটি টাকা

পিরোজপুরে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত ১০১ কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি। এ ঘটনায় পাচার চক্রের ৭ ব্যক্তি ও ২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ২০০৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৩ বছরে পিরোজপুরে প্রতারণার মাধ্যমে ১০১ কোটি ৪৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৩৮ টাকা সংগ্রহ ও পাচারের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এবং এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড–এর পরিচালক ও তাঁর স্ত্রীসহ প্রতিষ্ঠান দুটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নিকট আত্মীয়-স্বজনসহ মোট ৭ জন ব্যক্তি ও ২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ এবং ‘এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড’ ২০০৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নিজেদের বৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাতো।

তারা উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরাসরি বাড়ি-বাড়ি গিয়ে, স্থানীয় সভা-সমাবেশে এবং এজেন্টদের মাধ্যমে বিনিয়োগের নিমিত্তে টাকা সংগ্রহ করতো। এই সময়ে প্রতিষ্ঠান দুটি পিরোজপুর, বরিশাল ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং প্রবাসীদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ উত্তোলন করেছিল। বিনিয়োগকারীদের উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে তারা স্থানীয় মসজিদ, স্কুল ও মাদ্রাসা থেকেও টাকা নিয়েছে।

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তদন্তে উঠে এসেছে—উক্ত সময়ে চক্রটি ১০১ কোটিরও বেশি টাকা গ্রহণ করে। পরে পরস্পর যোগসাজশে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয়সহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত কাজে অর্থ ব্যবহার করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে সিআইডি–এর তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে।

তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সাল থেকে রাগীব আহসান ও তাঁর স্ত্রী সালমা আহসান প্রতিষ্ঠান দুটি পরিচালনা করে বিনিয়োগে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখান। এভাবে স্থানীয় ও প্রবাসী মিলিয়ে এক হাজারেরও বেশি মানুষের কাছ থেকে বিনিয়োগের নামে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। তদন্তে দেখা গেছে, এ দম্পতির সঙ্গে যোগসাজশে আবুল বাশার খান, খায়রুল ইসলাম, শামীম হাসান, মাহমুদুল হাসান ও মো. নাজমুল ইসলাম অর্থ সংগ্রহ ও স্থানান্তরের কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীরা প্রতিষ্ঠান দুইটির মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়ে পিরোজপুর সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় প্রায় শতাধিক মামলা দায়ের করেছেন। সিআইডি এরকম প্রায় ১০০ মামলা পর্যালোচনা করে। প্রাথমিকভাবে এসব অভিযোগের সত্যতা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পিরোজপুর সদর থানায় মামলা করে।

দীর্ঘ তদন্ত কার্যক্রম শেষে এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ৭ জন- রাগীব আহসান (৪০), মো. আবুল বাশার খান (৩৫), খায়রুল ইসলাম (৩৫), শামীম হাসান (৩৭), মো. মাহমুদুল হাসান (৩১), সালমা আহসান (৩২), ও মো. নাজমুল ইসলাম এবং ২ টি প্রতিষ্ঠান এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. ও এহসান রিয়েল এস্টেট এন্ড বিল্ডার্স লি. এর বিরুদ্ধে সিআইডি অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। বিচারার্থে সোপর্দ অভিযুক্তরা বর্তমানে হাজতবাসে আছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top