সকল মেনু

রাজস্ব আহরণের অনুরোধ অর্থ উপদেষ্টার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যার যার দপ্তরে অবস্থান করে অর্থবছরের শেষ কর্মদিবসগুলোতে রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমে মনোনিবেশ করার অনুরোধ করছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বুধবার, ২৫ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী সংগঠন, অর্থনীতিবিদ এবং উন্নয়ন সহযোগীরা রাজস্ব কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজস্ব নীতি ও বাস্তবায়নের কাজ পৃথকী করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংস্কার বিষয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করে। এই পরামর্শক কমিটির দাখিল করা রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদ রাজস্বনীতি প্রণয়ন এবং প্রণীত নীতি বাস্তবায়ন করে রাজস্ব আহরণে দুটো কার্যক্রম পৃথক করার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়।

পরে বিসিএস (কাস্টমস ও এক্সাইজ) ও বিসিএস (কর) ক্যাডারের কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের তত্ত্বাবধানে অন্য অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া প্রণয়ন করে ২০২৫-এর মার্চের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে দাখিল করেন।

দাখিল করা অধ্যাদেশের খসড়া পরিমার্জিত আকারে চলতি বছরের ১২ মে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়।

অধ্যাদেশ জারির পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উক্ত অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এ প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২০ মে অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ১৩ জন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ঘণ্টাব্যাপী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, রাজস্ব সংস্কার কমিটিসহ সব অংশীজনের সঙ্গে বিশদ আলোচনার পর জারি করা অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার পর অধ্যাদেশটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর পরও আন্দোলন চলমান থাকায় গত ২৫ মে অর্থ উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জারি করা অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে জানানো হলে আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

ইতোমধ্যে ২২ জুন থেকে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আবারও আন্দোলন শুরু হলে অর্থ উপদেষ্টা আগামী ২৬ জুন বিকেল ৫টায় বিসিএস (কর) এবং বিসিএস (কাস্টমস ও এক্সাইজ) ক্যাডারের প্রতিনিধিদের তার সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকার প্রত্যাশা করে, এ আলোচনার মাধ্যমে সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়ে সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জারি করা অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা সম্ভব হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top