স্টাফ রিপোর্টার: পর্ষদ ঘোষিত এমবি ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ২০২১-২২ সমাপ্ত হিসেব বছরের ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার প্রত্যাখ্যান করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিটি ২০২০-২১ সমাপ্ত হিসেব বছর শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ না দেয়ায় এমন সিদ্ধান্ত বিএসইসির।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে রোববার (১ জানুয়ারী/২০২৩) এ তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন- ২০২১ থেকে ৩০ জুন ২০২২ সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নগদ ১০ ও স্টক ২০ মিলে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।
নির্দেশনা অনুযায়ী বিএসইসির অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানি বোনাস শেয়ার ইস্যু করতে পারবে না। আর, এমবি ফার্মার বোনাস শেয়ার ঘোষণার পর তা বিতরণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতির জন্য আবেদন করেছিল কোম্পানিটি। এমবি ফার্মার বোনাস শেয়ারের এ আবেদন বিএসইসি প্রত্যাখ্যান করায় তা আর ইস্যু করতে পারবেনা কোম্পানিটি।
ডিএসইতে গত ২৩ নভেম্বর (২০২২) প্রকাশিত এমবি ফার্মার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টক ডিভিডেন্ড বা বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল কোম্পানিটি। এ প্রেক্ষিতে এমবি ফার্মা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নগদ ১০ শতাংশের পাশাপাশি ২০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল।
কোম্পানিটির পর্ষদ কর্তৃক স্টক ডিভিডেন্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর বিএসইসির প্রজ্ঞাপনের শর্ত পরিপালন না করেই তা ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল ডিএসই।
ডিএসইর মতানুসারে, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি ন্যূনতম ১০ শতাংশ হারে অবিরাম দুই বছর ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে ব্যর্থ হলে কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়া স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারে না। এমবি ফার্মা গত ২০২০-২১ সমাপ্ত হিসেব বছর কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। যেকারণে, কোম্পানিটির স্টক লভ্যাংশের আবেদন বাতিল বা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
স্টক লভ্যাংশে অনুমোদন না পাওয়ায় আটকে গেলো কোম্পানিটির মূলধন বাড়ানোর স্বপ্ন। যদিও কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ৩০ শতাংশ লভ্যাংশের পাশাপাশি অন্যান্য এজেন্ডায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেয়া হয়।
এমবি ফার্মাসিউটিক্যালসের সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসেব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৩৬ পয়সা। তবে, আগের বছর একই সময়ে শেয়ারপ্রতি ৫ টাকা ৪২ পয়সা লোকসানে ছিল কোম্পানিটি।
কোম্পানিটির ৩০ জুন-২০২২ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৯৬ পয়সায়। আগের বছর যা ছিল ১৮ টাকা ৬৮ পয়সায়।
আবার, কোম্পানির সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২২-২৩ হিসেব বছরের প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ২৫ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ১০ পয়সা। আলোচ্য সময়ে ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ২০ পয়সায়।
শেয়ারমার্কেটে ১৯৮৬ সালে তালিকাভুক্ত এমবি ফার্মার অনুমোদিত মূলধন ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর, রিজার্ভে রয়েছে ২ কোটি ৮ লাখ টাকা।
কোম্পানিটির মোট শেয়ারসংখ্যা ২৪ লাখ। এরমধ্যে উদ্যেক্তা/পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৭৭ দশমিক ২৫ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের রয়েছে ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বাকি ১৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।