সকল মেনু

অর্থ কেলেঙ্কারির দায়ে বিএটিবিতে চাকরিচ্যুতির আতঙ্ক !

সিনিয়র রিপোর্টার: বিট্রিশ আমেরিকান ট্যোবাকো বাংলাদেশের (বিএটিবি) কর্মকর্তাদের মধ্যে চাকরি হারানোর আতঙ্ক বিরাজ করছে। কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির (সিএসআর) ২০০ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ বিএটিবির তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পদত্যাগের পর থেকে কর্মীরা এমন আতঙ্কে রয়েছেন।

সিএসআরের অর্থ লোপাটের অভিযোগে বিএটির প্রধান কার্যালয়ের অডিট বিভাগের কর্মকর্তাদের তোপের মুখে কোম্পানির ঢাকা কার্যালয়ের এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান শেখ শাবাব আহমেদ, লিগ্যাল অ্যান্ড অ্যাক্সটারনাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান মুবিনা আসাফ, বিজনেস কমিউনিকেশন ম্যানেজার ফুয়াদ বিন সাজ্জাদ পদত্যাগে বাধ্য হন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জানুয়ারি মাসে বিট্রিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ের একটি অডিট টিম ঢাকায় আসেন। অডিট টিম কাজের শুরুতেই কর্মকর্তাদের কম্পিউটার জব্দ করেন। সবাইকে জানিয়ে দেন কোন কর্মী তার ডেস্ক থেকে নড়চড় করতে পারবেন না। একই সময়ে বিএটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শেহজাদ মুনিমকে এক সপ্তাহের জন্য হোম অফিস দেওয়া হয়।

ইংল্যান্ডের অডিট টিম প্রথমেই সিএসআর কর্মসূচি অর্থ নয়-ছয়ের প্রমান পেয়েছেন। এবিষয়ে শেখ শাবাব আহমেদের কাছে জানতে চাইলে সন্তোষজনক কোন জবাব দিতে পারেননি। তবে তিনি অডিট টিমকে জানিয়েছেন সব ঘটনা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অবগত। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে বিএটিবির সচিব আজিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোম্পানির এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান শেখ শাবাব আহমেদ এখনও চাকরিতে রয়েছেন। ‍মুবিনা আসাফও আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। আপনার যদি কিছু জানার থাকে আমাদের মেইল করতে পারেন। আমরা সব প্রশ্নের উত্তর দেব।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বহুজাতিক তামাক কোম্পানি বিট্রিশ আমেরিকান ট্যোবাকো বাংলাদেশের (বিএটিবি) কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির (সিএসআর) ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়ে আপত্তি তুলেছে কোম্পানির অডিট বিভাগ। এই অর্থ খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে অডিট বিভাগের কাছে কোন জবাব দিতে পারেনি কোম্পানির এমডি শেহজাদ মুনিম।

পরবর্তীতে এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান শেখ শাবাব আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি অডিট বিভাগে জানিয়েছেন বিষয়টি ঊর্ধ্বতন সবাই অবগত। এ ঘটনার পরই চাকরিচ্যুত করা হয় তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে। গত ৫-৬ বছর ধরে এই অর্থ নয়ছয় করা হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ২০০ কোটি টাকা বলা হলে অর্থের পরিমাণ আরও বাড়বে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির (সিএসআর) ২০০ কোটি টাকা নয়ছয়ের ঘটনায় তোপের মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্য কর্মকর্তারাও। যে কোন সময় তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হতে পারে। অথবা তারাও চাকরি থেকে পদত্যাগ করতে পারেন।

সূত্র জানিয়েছে, বিট্রিশ আমেরিকান ট্যোবাকো পরিচালিত প্রেরনা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সিএসআরের অর্থ ব্যয় করে বিট্রিশ তামাকজাত পণ্য উৎপাদন কোম্পানিটি। মূলত এই প্রেরনা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অর্থ লোপাট করেছে কতিপয় কর্মকর্তারা। করোনার সময় প্রেরনা ফাউন্ডেশন মাস্ক তৈরি করলেও এখন তারা চকলেট সহ নানা রকম পণ্য বাজারজাত করছে। অভিযোগ রয়েছে প্রেরনা ফাউন্ডেশনে বিক্রির পণ্য সরবরাহ করা হয় শেহজাদ মুনিম পরিচালিত কোম্পানি থেকে।

এদিক কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচির আড়ালে সারা দেশের কৃষকদের দীর্ঘদিন ধরে তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে বিএটিবি। সিএসআর- এর প্রকল্প ‘দীপ্ত’ ও ‘বনায়ন’ দিয়ে নিজেদের বিজ্ঞাপন প্রচার করে বেড়াচ্ছে বিএটিবি।

তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের মাধ্যমে কোম্পানির বিজ্ঞাপন প্রচার ও কৃষকদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে বিএটিবি। আইনের ফাঁক গলে এসব দিয়ে কোম্পানির লোগো প্রচার করিয়ে নিচ্ছে। বিএটিবি কৃষকদের উন্নত চাষের প্রশিক্ষণের নামে দেওয়া হচ্ছে কেবল তামাক চাষের প্রশিক্ষণ।

অন্যদিকে, ২০১৩ সালে পাহাড়ে অন্ধকার দূর করে আলো জ্বালানো হয়েছে বলে কোটি টাকা খরচে বিজ্ঞাপন প্রচার করেছে বিএটিবি। তবে শুধুমাত্র কোম্পানির তালিকাভুক্ত কয়েক’শ চাষির মাঝে ‘দীপ্ত’ প্রকল্পের সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূলত অন্য কোম্পানির চাষিদের আকৃষ্ট করতে এবং পত্রিকায় নিজেদের লোগো ব্যবহার করতেই এসব সোলার বিতরণ করছে বিএটিবি।

বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির ৪টি গ্রামের ৫৭৬টি পরিবারকে ‘দীপ্ত’ প্রকল্পের অধীনে সৌরবিদ্যুত দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএটিবি। হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে এ প্রকল্পের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুত সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে প্রচারণা চালালেও, দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র নিজ চাষিদের। এদের মধ্যে অনেক অবস্থাসম্পন্ন কৃষকও রয়েছেন। তামাকচাষিরা জানান, ২০ ওয়াটের এ সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে তিনটি বাতি জ্বালানো সম্ভব।

সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের একটি সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিএটিবি’র খরচ হয়েছে মাত্র ২৫ হাজার টাকা। অথচ বিজ্ঞাপনেই খরচ করেছে কোটি টাকার ওপর।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সাল থেকেই স্থানীয় কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে এ সৌরবিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য কথার্বাতা চালাতে থাকে বিএটিবি। এ ক্ষেত্রে পাড়ার হেডম্যান, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিষ্ঠানটি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top