ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড আহসান এইচ মনসুর। বৃহস্পতিবার পত্যাগপত্র গ্রহণের চিঠি ব্যাংকটির এমডিকে পাঠানো হয়েছে। তার আগে সকালে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ব্যাংকটির বোর্ডে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে চিঠি থেকে জানা গেছে।

এদিকে নতুন করে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের জন্য ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক জোবায়দুর রহমানের কাগজপত্র বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যালোচনা করেছে। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে থাকা মো. ওমর ফারুক খানকে পূর্ণাঙ্গ এমডি করার বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রকৃয়াধীন রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ পর্ষদ বরাবর স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হলে অনেকটা তরিঘরি করে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
একই সঙ্গে নতুন চেয়ারম্যান করার জন্য ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক জোবায়দুর রহমানের যাবতীয় তথ্য পর্যালোচনার নির্দেশ দেন গভর্নর ড আহসান এইচ মনসুর। আর ব্যাংকটির অতিরিক্ত এমডি মো. ওমর ফারুক খানকে পূর্ণাঙ্গ এমডি করার জন্য ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সুপারিশ করেছে।
যাকে আগামী সপ্তাহে প্রথাগতভাবে সাক্ষাতকারের জন্য ডাকা হবে। যদিও গত ১৪ জুলাই ব্যাংকের চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ ও তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের ব্যাংক হিসাব তলব করে বিএফআইইউ। আর গত ২২ জুন গভীর রাতে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনিরুল মাওলা।
ইসলামী ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, গত ১০ জুলাই ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভায় এম ফারুককে এমডি হিসাবে চুড়ান্ত

করে অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক অনাপত্তি পত্র পাঠালে সরকারি কর্মদিবসের যেকোনো দিন তিনি রেগুলার এমডি হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এখন তিনি চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। তবে নিয়ৈাগে রআগে তার একটা সাক্ষাতকার নেওয়া হবে।
জানা গেছে, ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং তার আগে ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত রূপালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সোনালী ব্যাংক থেকে অবসরের পর দীর্ঘ বিরতি শেষে তিনি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে তার অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েন। এ নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের ভেতরে দুইটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছে। তবে গভর্নরের ঘনিষ্ট হিসাবে পরিচিত অধ্যাপক জোবায়দুর রহমানকেও ইসলামসী শরিয়া জ্ঞান ছাড়াই নিয়োগ দিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়ৈাগের বিষয়ে জানতে অধ্যাপক জোবায়দুর রহমানকে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিফ করেন নি। খুদের বার্তা পাঠালে জবাব দেননি।
উল্লেখ্য, গত জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩হাজার কোটি টাকা। যা গত বছরের ২৭ আগস্ট ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে আমানত বেড়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। গত আগসে্ট থেকে গত জুন পর্যন্ত নতুন হিসাব খোলা হয়েচে ২৪ লাখ ৩০ হাজার ৬০০ টি। এসব হিসাবে নতুন সঞ্চয় ৩২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। কিন্তু সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান মাসুদ এবং এমডি মনিরুল মওলার অসহযোগিতার জন্য ব্যাংকটির কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন হয়নি।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।