সকল মেনু

শেখ হাসিনার রায়ের দিন পুঁজিবাজারে বেড়েছে সূচক-লেনদেন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপারাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আদালতের রায়ের দিন সোমবার দেশের উভয় পুঁজিবাজারে লেনদেন ও সূচক বেড়েছে।

গত কয়েকদিনের অব্যহত পতনের পর লেনদেন বেড়েছে এবং সবগুলো সূচকের উত্থান হয়েছে। গত কয়েক দিনে পুঁজিবাজার বিক্রিয় চাপে ছিল, সোমবার দুপুরের পরে ক্রয় চাপ বাড়ে। যার কারণে লেনদেন বৃদ্ধি এবং সূচকের উত্থান ঘটে বলে মনে করেন অনেক বিনিয়োগকারী। মার্জিন রুলস স্থগিত করাও বড় কারণ হতে পারে।

এদিকে, মার্জিন রুলসের বিষয়ে মঙ্গলবার শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৪২.৮০ পয়েন্ট। দিনশেষে সূচক দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৭৪ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে। ডিএসইক্সের পাশাপাশি ডিএসই শরিয়াহ সূচক এবং ডিএসই-৩০ সূচকও বেড়েছে।

ডিএসইতে রোববার লেনদেনের পরিমাণ ছিল মাত্র ২৯৮ কোটি টাকা। লেনদেন সোমবার বেড়ে হয়েছে ৩৪৮ কোটি টাকা। আগের দিনের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) লেনদেন বেড়ে হয়েছে ১৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস রোববার লেনদেন ছিল ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। টানা ১১ কার্যদিবস পতনের পর সোমবার মূল্যসূচক বেড়েছে এবং দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান।

সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৫৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৫টির এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

জানতে চাইলে স্টক বাংলাদেশের রিসার্চ ইউনিটের প্রধান আব্দুল হাদী খোকন বলেন, ‘গত কয়েক ধরে বাজার নিম্নগতীর ছিল। কমেছে সবগুলো সূচক এবং লেনদেন। ডিএসইএক্স যখন ৫০০০ হাজারের নিচে নামে তখন থেকেই বিনিয়োগ পরিবেশ শুরু হয়। যার কারণে বিক্রয় চাপ সামলে নিয়ে বাজার এখন ক্রয় চাপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মামলার রায় পড়া শুরু হয় সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। লেনদেনের শুরুর দিকে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমায় মূল্যসূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ১৬ পয়েন্ট কমে যায়।

ডিএসইতে বেলা ১১টার পর থেকে বাজারের চিত্র বদলে যেতে থাকে। দুপুরের পরে বিক্রি চাপ বাড়তে থাকে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ইস্যুগুলোর মধ্যে দিনি শেষে দর বেড়েছে ৩২২টির, কমেছে ৩৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৬টির।

জুলাই অভ্যূত্থানে গত বছরের ৫ আগষ্ট ভারতে অবস্থান নেন শেখ হাসিনা। এরপর তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণীত হওয়ায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক।

গত কয়েকদিন ধরে শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের ঘটনা ঘটছে। চলতি নভেম্বর মাসে ডিএসইএক্সের পতন হয়েছে ৩৪৮ পয়েন্ট।

ডিএসইতে লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭৭ লাখ টাকার। ১০ কোটি ৭২ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- রানার অটোমোবাইল, ওরিয়ন ইনফিউশন, লাভেলো আইসক্রিম, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার এবং মনোস্পুল বাংলাদেশ।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

top